তারুণ্যের উৎসব – টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫ এ RPIAA এর অংশগ্রহণ
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরের ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তারুণ্যের উৎসব – টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশের সকল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এতে অংশগ্রহণ করে, যা হয়ে ওঠে এক জাতীয় উৎসব।
রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট (RPI) এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় এবং শুরু থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ায় RPI Alumni Association – Rangpur।
সংগঠনের কার্যক্রমসমূহ –
১. আগমন ও অভ্যর্থনা
রংপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় পৌঁছানোর পর অ্যালামনাই সংগঠনের সদস্যরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
এটি ছিল শুধু সৌজন্য নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা— “তোমরা একা নও, আমরা আছি তোমাদের পাশে।”
২. যাতায়াত সুবিধা
ঢাকার ভেতরে যাতায়াত অনেক সময়ই খেলোয়াড়দের জন্য ঝক্কি-ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। RPIAA Rangpur এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে খেলোয়াড় ও শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত পরিবহনের ব্যবস্থা করে। এতে খেলোয়াড়রা ঝামেলামুক্ত থেকে শুধুমাত্র খেলায় মনোযোগ দিতে পেরেছিল।
৩. খাবার ও আতিথেয়তা
অ্যালামনাই সংগঠন খেলোয়াড় ও শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করে।
এটি শুধু শারীরিক শক্তিই যোগায়নি, বরং খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে আশ্বস্ত করেছে যে তাদের জন্য একজন অভিভাবকসুলভ সমর্থক আছে।
৪. ইউনিফর্ম ও পরিচিতি
RPIAA বিশেষভাবে টিম টিশার্ট সরবরাহ করে। এই টিশার্ট পরে সমর্থকরা যখন মাঠে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়েছিলো, তখন তারা শুধু একটি দল ছিল না, বরং RPI-এর সম্মান ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে।
৫. মাঠে উপস্থিত থেকে উৎসাহ প্রদান
টুর্নামেন্ট চলাকালীন অ্যালামনাই সদস্যরা মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছেন। গ্যালারিতে অ্যালামনাইদের স্লোগান, সমর্থন ও উপস্থিতি খেলোয়াড়দের লড়াই করার মানসিক শক্তি দিয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচ ও চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন:
১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফাইনালে রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের। ম্যাচটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ এবং প্রতিটি মুহূর্তে চাপ ছিল প্রবল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট জয়লাভ করে এবং চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি অর্জন করে।
এই অর্জনে খেলোয়াড়দের ক্রীড়াশৈলীর পাশাপাশি অ্যালামনাইদের নীরব ভূমিকা ছিল অসাধারণ। তাদের দেওয়া সমর্থন ও সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং পারফরম্যান্সকে শক্তিশালী করেছে।
আহ্বায়কের বক্তব্য:
প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান, আহ্বায়ক – RPI Alumni Association (RPIAA) - Rangpur বলেন:
"এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়; এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মান, ঐতিহ্য এবং শক্তির প্রতীক।
আমরা বিশ্বাস করি, অ্যালামনাই ও শিক্ষার্থীরা একসাথে থাকলে বড় কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়।
ভবিষ্যতে আমরা একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে আরও বড় অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।"
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও তাৎপর্য:
এই টুর্নামেন্ট প্রমাণ করেছে, অ্যালামনাই সম্পৃক্ততা শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করেছে, তাদের পেছনে রয়েছে এক শক্তিশালী অ্যালামনাই পরিবার।
প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি জাতীয় পর্যায়ে উজ্জ্বল হয়েছে।
ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
RPI Alumni Association (RPIAA)– Rangpur শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি হলো একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার।
প্রাক্তনরা আজকের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এগিয়ে নিচ্ছে ভবিষ্যতের পথে।
আর এই যাত্রায় প্রতিটি সাফল্য শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং এক অমূল্য বার্তা—
“আমরা একসাথে, আমরা গর্বিত, আমরাই RPI।”

