২৪ জানুয়ারি ২০২৫। শীতের এক স্নিগ্ধ সকালে গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত বাঁশরি রিসোর্টে সমবেত হয় রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (RPI) প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের এক অনন্য মহামিলন। একটি দিন, যা সাক্ষী হলো ইতিহাস সৃষ্টির।
সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ৭৫০ জন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারবর্গ এই আয়োজনে অংশ নেন। প্রাক্তন সহপাঠী, শিক্ষক ও সহকর্মীদের সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হওয়ার আনন্দে দিনটি পরিণত হয় আবেগ, হাসি, স্মৃতি আর উদ্দীপনায় ভরা এক উৎসবে।
মহামিলনের উদ্দেশ্য ছিল—
- প্রাক্তনদের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন
- শিক্ষকদের সঙ্গে আবেগঘন স্মৃতিচারণ
- আরপিআই-এর ঐতিহ্য ও গৌরব উদযাপন
- ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথচলা নির্ধারণ
ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং হাজারো প্রকৌশলীর জীবনের ভিত্তি। তাই প্রাক্তনদের এই পুনর্মিলন শুধু আনন্দ নয়, ছিলো এক নতুন যাত্রার সূচনা।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল—
- সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
- প্রাক্তনদের সাফল্যের গল্প শেয়ার
- স্মৃতিচারণ ও মুক্ত আলোচনা
- ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা
এছাড়াও ছোট ছোট গ্রুপে পুরনো বন্ধুদের আড্ডা, শিক্ষকদের সঙ্গে আবেগময় মুহূর্ত ভাগাভাগি আর নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে দিয়েছে এক বহুমাত্রিক রূপ।
শিক্ষকদের উপস্থিতি –
এই মহামিলনকে সত্যিকারের মহিমান্বিত করেছে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতি। তাঁদের আগমন শুধু প্রাক্তনদের জন্য নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্যও ছিল এক বিশেষ অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
- ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সরকার (চিফ ইন্সট্রাক্টর, সিভিল)
- ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শহিদুল ইসলাম শাওন (চিফ ইন্সট্রাক্টর, মেকানিক্যাল)
- ইঞ্জিনিয়ার নাজমুস সাকিব (চিফ ইন্সট্রাক্টর, পাওয়ার)
- অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান (ডুয়েট, মেকানিক্যাল)
শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের প্রজ্ঞাময় বক্তব্যে তুলে ধরেন—আরপিআই-এর ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের গৌরবময় অবদান, এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তাঁদের প্রতিটি কথা প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের জন্য ছিল দিকনির্দেশক, প্রেরণাদায়ী এবং পথপ্রদর্শক।
শিক্ষকরা শুধু অতীতের স্মৃতি উজ্জ্বল করেননি, বরং ভবিষ্যতের দায়িত্ব ও সম্ভাবনার দিকেও সবাইকে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
একটি নতুন সূচনা:
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল “RPI Alumni Association (RPIAA) - Rangpur”-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
প্রাক্তনদের ঐক্য, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন ইঞ্জি. মো. তৌহিদুর রহমান (তৌহিদ)।
তাঁর—
- দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা,
- অ্যালামনাইদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ,
- সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের দক্ষতা,
এবং আরপিআই-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা
তাঁকে করেছে সবার আস্থাভাজন। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাঁকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, তাঁর নেতৃত্বে RPIAA হবে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, যা প্রাক্তন ছাত্রদের নেটওয়ার্ককে আরো সুসংগঠিত করবে, পেশাগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং একাডেমিক ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন অংশীদারিত্বের দ্বার উন্মোচন করবে।
এই পুনর্মিলনী সফলভাবে আয়োজন সম্ভব হয়েছে বহু প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন—
- প্রকৌ. তৌহিদুর রহমান (তৌহিদ),
- প্রকৌ. নাসিম,
- প্রকৌ. মিল্টন,
- প্রকৌ. খোকন,
- প্রকৌ. সুমন,
- প্রকৌ. নিবারণ,
- প্রকৌ. গালিব,
- প্রকৌ. সাগর,
- প্রকৌ. আশিক,
- প্রকৌ. রিংকু,
- প্রকৌ. এসবি রাসেল
- প্রকৌ. পারভীন আক্তার ময়ন এবং
- প্রকৌ. আকতারুজ্জামান আসিফ সহ
রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধি ও লিডারগন।
এই মহামিলন প্রমাণ করেছে—রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেবল স্মৃতিচারণের স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার এক ঐক্যবদ্ধ পরিবার।
“রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মহামিলন ২০২৫” তাই শুধু একটি পুনর্মিলন নয়, বরং একটি আন্দোলন—যা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য তৈরি করছে নতুন দিগন্ত, নতুন স্বপ্ন, নতুন শক্তি।
দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত সাক্ষী হলো একটি নতুন ইতিহাসের। স্মৃতি, আনন্দ, ঐক্য এবং ভবিষ্যতের আশার সমন্বয়ে এই আয়োজন হয়ে থাকবে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অ্যালামনাই পরিবার এবং পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং সম্প্রদায়ের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।

